আখেরী চাহার শোম্বা হলো-ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের পালিত অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি স্মারক দিবস।আখেরী চাহার শোম্বা একটি আরবি ও ফার্সি শব্দ-যুগল।এর আরবী অংশ আখেরী,যার অর্থ “শেষ”এবং ফার্সি অংশ চাহার শোম্বা,যার অর্থ “বুধবার”মূল ঘটনাঃ ১০ম হিজরীর শুরুতে রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।ক্রমেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।তিনি এতটাই অসুস্থ হয়ে পড়েন যে,নামাজের ইমামতি পর্যন্ত করতে পারছিলেন না। ২৮ সফর বুধবার প্রিয় নবীজি (দঃ) সুস্থ হয়ে ওঠেন। দিনটি ছিল সফর মাসের শেষ বুধবার।এই দিন কিছুটা সুস্থবোধ করায় রাসূলুল্লাহ (দঃ) গোসল করেন এবং শেষবারের মত নামাজে ইমামতি করেন। মদীনাবাসী এই খবরে আনন্দ-খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেলেন এবং দলে দলে এসে প্রিয় নবীজি (দঃ) কে এক নজর দেখে গেলেন। সকলে তাদের সাধ্যমতো দান-সাদকা করলেন,শুকরিয়া নামাজ আদায় ও দোয়া করলেন।
উল্লেখ্য যে, ২৯ সফর তিনি আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন।সফর মাসের শেষ বুধবার ছিল ৩০ তারিখ। এদিন নবী করীম (ﷺ)-এর অসুখ হঠাৎ কমে গেল। তিনি সকাল বেলা উঠেই হযরত আয়শা (رضي الله عنها)-কে ডেকে বললেন,আমার জ্বর কমে গেছে।তুমি আমাকে গোসল করিয়ে দাও।সে সময় তাকে গোসল করানো হল। তিনি সুস্থ্তা বোধ করলেন।এটাই ছিল দুনিয়ার শেষ গোসল। ইমাম হাসান, ইমাম হোসাইন ও বিবি ফাতিমা (رضي الله عنهم) কে ডেকে আনা হলো। নাতিদ্বয়কে নিয়ে তিনি সকালের নাস্তা করেন। হযরত বেলাল (رضي الله عنه) ও সুফফাবাসীগণ বিদ্যুতের ন্যায় এ সংবাদ মদীনার ঘরে ঘরে ছড়িয়ে দিলেন। সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে আনন্দের ঢেউ খেলে গেল। তারা বাঁধ ভাঙ্গা স্রোতের মত দলে দলে আসতে লাগলেন এবং হুযুর (ﷺ)-কে এক নজর দেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে রইলেন।
বুজর্গানেদ্বীনের কিছু নির্দিষ্ট বিধি-বিধানের আলোকে ‘আখেরী চাহার শোম্বা’ পালন করা হয়।শুকরিয়া দিবস হিসাবে পালিত হয়।যাতে সাধারণত গোসল করে দু’রাকাত শোকরানা-নফল নামাজ আদায় শেষে রোগ থেকে মুক্তির দোয়া ও দান-খয়রাত করা হয়। বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা, দরবার, খানকায় ওয়াজ-নসিহত, জিকির-আজকার, মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয় এই দিনটি পালন উপলক্ষে। এদিন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারিভাবে বন্ধ রাখার পাশাপাশি অফিস-আদালতে ঐচ্ছিকভাবে ছুটির দিন হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

Reporter Name 










