Dhaka , Thursday, 5 March 2026
News Title :
  || বিশেষ বিজ্ঞপ্তি || কুতুবদিয়ায় শাহ আব্দুল মালেক আল-কুতুবী রাহমাতুল্লাহ এর ২৬ তম বার্ষিক ওরস শরীফ লাখো ভক্তের সমাগমের দ্বারা সম্পন্ন হয়েছে। চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাট চাঁন্দগাঁও এক কিলোমিটার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নতুন কমিটি অনুমোদিত। পটিয়ায় বেকারীর আড়ালে তৈরি হচ্ছে নকল নেসক্যাফ কফি, নীরব প্রশাসন চট্টগ্রামের সাতকানিয়া সোনাকানিয়া গারাঙ্গিয়া রঙ্গীপাড়া এলাকার পরিচিত মুখ মোহাম্মদ হোসেন জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে দেশত্যাগ করেছেন। সাতকানিয়া উপজেলা এলাকায় সনাতনী সম্প্রদায়ের অসহায় মহিলার ঘর নির্মানে আর্থিক সহায়তা প্রদান। একদিকে নিজের পড়াশোনা , অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন প্রোগ্রাম সভা… দক্ষিণ আগ্রাবাদ যুবদলের বিজয় র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে সন্দ্বীপের মুছাপুরের কৃতি সন্তান প্রসেনজিৎ দাস পেলেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজ  স্বর্ণপদক। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সড়ক পরিবহন শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তির জন্য দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
News Title :
  || বিশেষ বিজ্ঞপ্তি || কুতুবদিয়ায় শাহ আব্দুল মালেক আল-কুতুবী রাহমাতুল্লাহ এর ২৬ তম বার্ষিক ওরস শরীফ লাখো ভক্তের সমাগমের দ্বারা সম্পন্ন হয়েছে। চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাট চাঁন্দগাঁও এক কিলোমিটার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নতুন কমিটি অনুমোদিত। পটিয়ায় বেকারীর আড়ালে তৈরি হচ্ছে নকল নেসক্যাফ কফি, নীরব প্রশাসন চট্টগ্রামের সাতকানিয়া সোনাকানিয়া গারাঙ্গিয়া রঙ্গীপাড়া এলাকার পরিচিত মুখ মোহাম্মদ হোসেন জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে দেশত্যাগ করেছেন। সাতকানিয়া উপজেলা এলাকায় সনাতনী সম্প্রদায়ের অসহায় মহিলার ঘর নির্মানে আর্থিক সহায়তা প্রদান। একদিকে নিজের পড়াশোনা , অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন প্রোগ্রাম সভা… দক্ষিণ আগ্রাবাদ যুবদলের বিজয় র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে সন্দ্বীপের মুছাপুরের কৃতি সন্তান প্রসেনজিৎ দাস পেলেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজ  স্বর্ণপদক। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সড়ক পরিবহন শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তির জন্য দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ফেনী লাইন: সাহেদ চৌধুরীর প্রতারণার নতুন ফাঁদ নয়তো?

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : সম্প্রতি “ফেনী লাইন ট্রান্সপোর্ট প্রোফাইটি লিমিটেড” নামে একটি নতুন পরিবহন সংস্থা যাত্রা শুরু করেছে। এই পরিবহন সেবার উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন নুর মোহাম্মদ সাহেদ চৌধুরী, যিনি নিজেকে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (Managing Director) হিসেবেও পরিচয় দিচ্ছেন। তবে এর পেছনে রয়েছে একের পর এক প্রশ্ন এবং অনিয়মের অভিযোগ।

সংবাদকর্মীরা সাহেদ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে চান, পরিবহন কোম্পানি হিসেবে ফেনী লাইন ট্রান্সপোর্ট চালু করতে হলে প্রয়োজনীয় বৈধ অনুমতি ও নথিপত্র – যেমন:বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BRTA) থেকে পরিবহন পারমিট,রুট পারমিট,গাড়ির রেজিস্ট্রেশন,ড্রাইভারের বৈধ লাইসেন্স,ফিটনেস সার্টিফিকেট,ট্যাক্স টোকেন, এবং ট্রেড লাইসেন্স যাবতীয় সবকিছু কি তারা নিয়েছেন?

সাহেদ চৌধুরী জানান, তারা সকল প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস সংগ্রহ করেছেন এবং সেগুলো হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু পরে বারবার ফোন করেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। সেই সঙ্গে তিনি কোনো নথিপত্রও আর পাঠায়নি।

বিভিন্ন সূত্রে অনুসন্ধান করে জানা যায়, সাহেদ চৌধুরীর কাছে কোনো বৈধ ডকুমেন্টস নেই।
এমনকি চট্টগ্রাম আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতি থেকে জানা গেছে, সাহেদ চৌধুরীর ‘ফেনী লাইন” পরিবহনের জন্য মাত্র ৫টি গাড়ির অনুমোদন চেয়ে আবেদন পেয়েছেন। অথচ সেখানে দেওয়া গাড়িগুলোর কোনো বৈধ ডকুমেন্টস জমা না দিলেও গাড়ির যে নাম্বার গুলো দিয়েছেন সেগুলোর বেশিরভাগের ফিটনেস সার্টিফিকেটই ফেইল। এ কারণে সেখান থেকেও অনুমোদন দেয়া হয়নি।

অথচ সাহেদ গণমাধ্যমে দাবি করছেন, তার কোম্পানির অধীনে এবং তার মূল মালিকানায় ২৫টি গাড়ি রয়েছে এবং সেখানে আরো ১০ জন শেয়ারহোল্ডার রয়েছেন বলে জানান।
এই অবস্থায় প্রশ্ন দেখা দেয়—অবশিষ্ট ২০টি গাড়ির মালিকানা ও বৈধতার বিষয়টি কেন তিনি গোপন করলেন?
এছাড়া তিনি জানান, তার কোম্পানিতে প্রায় ৭০ জন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মী রয়েছেন—যারা গাইড, হেলপার, কাউন্টারম্যান প্রভৃতি পদে নিয়োজিত।

সাহেদ চৌধুরীর অতীত রেকর্ড ঘেঁটে দেখা যায়, এর আগেও তার বিরুদ্ধে নানা গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
তিনি নিজেকে নৌবাহিনীর সাব-লেফটেন্যান্ট পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে প্রতারণা করতেন। এমন অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগও করেন তিনি।

এছাড়াও ব্যবসায়িক প্রলোভন দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর প্রতিশ্রুত চেক প্রদান করেও আত্মসাৎ করেন লাখ লাখ টাকা, থানায় এমন অভিযোগও এমন অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে ।

তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড এবং বর্তমান কার্যক্রম দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে—সাহেদ চৌধুরী কি আবারো ফেনী লাইন ট্রান্সপোর্টের ব্যানারে বড় ধরনের প্রতারণার জাল ছড়াচ্ছেন?

গাইড, হেলপার, কাউন্টারম্যান নিয়োগের নামে, বা শেয়ারহোল্ডার বানানোর নামে কিংবা বাস ব্যবসায় যুক্ত করার প্রলোভনে অভিজ্ঞতা বিহীন মানুষদের থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে আবারো গা-ঢাকা দেবেন না তো?

এদিকে চট্টগ্রাম আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতি কর্তৃপক্ষের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ফেনী লাইন নামে কোনো পরিবহন কোম্পানি এখনো পর্যন্ত তাদের থেকে নিবন্ধিত নেয়নি। এর মানে প্রতিষ্ঠানটি এই মুহূর্তে আন্তঃজেলা বাস চলাচলের কোনো বৈধ অনুমতি পাচ্ছে না।

ফেনী লাইন ট্রান্সপোর্ট প্রোফাইটি লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা সাহেদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে অতীতে যেসব অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে সেসবেরই ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে বলে সন্দেহ করছেন অনেকেই।
তার বক্তব্য ও বাস্তবতার মাঝে দ্বৈততা রয়েছে। নথিপত্র দেখাতে অপারগতা, অতীত অপরাধমূলক রেকর্ড, এবং নতুন উদ্যোগের পেছনে অস্পষ্টতা—সব মিলিয়ে বিষয়টি গভীর অনুসন্ধানের দাবি রাখে।
প্রশ্ন রয়ে যায়—সাহেদ চৌধুরীর ফেনী লাইন প্রতারণার নতুন ফাঁদ নয়তো?
[আরো বিস্তারিত আসছে দ্বিতীয় পর্বে…]

Tag :
About Author Information

Popular Post

  || বিশেষ বিজ্ঞপ্তি ||

ফেনী লাইন: সাহেদ চৌধুরীর প্রতারণার নতুন ফাঁদ নয়তো?

Update Time : 12:31 pm, Tuesday, 3 June 2025

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : সম্প্রতি “ফেনী লাইন ট্রান্সপোর্ট প্রোফাইটি লিমিটেড” নামে একটি নতুন পরিবহন সংস্থা যাত্রা শুরু করেছে। এই পরিবহন সেবার উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন নুর মোহাম্মদ সাহেদ চৌধুরী, যিনি নিজেকে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (Managing Director) হিসেবেও পরিচয় দিচ্ছেন। তবে এর পেছনে রয়েছে একের পর এক প্রশ্ন এবং অনিয়মের অভিযোগ।

সংবাদকর্মীরা সাহেদ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে চান, পরিবহন কোম্পানি হিসেবে ফেনী লাইন ট্রান্সপোর্ট চালু করতে হলে প্রয়োজনীয় বৈধ অনুমতি ও নথিপত্র – যেমন:বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BRTA) থেকে পরিবহন পারমিট,রুট পারমিট,গাড়ির রেজিস্ট্রেশন,ড্রাইভারের বৈধ লাইসেন্স,ফিটনেস সার্টিফিকেট,ট্যাক্স টোকেন, এবং ট্রেড লাইসেন্স যাবতীয় সবকিছু কি তারা নিয়েছেন?

সাহেদ চৌধুরী জানান, তারা সকল প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস সংগ্রহ করেছেন এবং সেগুলো হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু পরে বারবার ফোন করেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি। সেই সঙ্গে তিনি কোনো নথিপত্রও আর পাঠায়নি।

বিভিন্ন সূত্রে অনুসন্ধান করে জানা যায়, সাহেদ চৌধুরীর কাছে কোনো বৈধ ডকুমেন্টস নেই।
এমনকি চট্টগ্রাম আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতি থেকে জানা গেছে, সাহেদ চৌধুরীর ‘ফেনী লাইন” পরিবহনের জন্য মাত্র ৫টি গাড়ির অনুমোদন চেয়ে আবেদন পেয়েছেন। অথচ সেখানে দেওয়া গাড়িগুলোর কোনো বৈধ ডকুমেন্টস জমা না দিলেও গাড়ির যে নাম্বার গুলো দিয়েছেন সেগুলোর বেশিরভাগের ফিটনেস সার্টিফিকেটই ফেইল। এ কারণে সেখান থেকেও অনুমোদন দেয়া হয়নি।

অথচ সাহেদ গণমাধ্যমে দাবি করছেন, তার কোম্পানির অধীনে এবং তার মূল মালিকানায় ২৫টি গাড়ি রয়েছে এবং সেখানে আরো ১০ জন শেয়ারহোল্ডার রয়েছেন বলে জানান।
এই অবস্থায় প্রশ্ন দেখা দেয়—অবশিষ্ট ২০টি গাড়ির মালিকানা ও বৈধতার বিষয়টি কেন তিনি গোপন করলেন?
এছাড়া তিনি জানান, তার কোম্পানিতে প্রায় ৭০ জন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মী রয়েছেন—যারা গাইড, হেলপার, কাউন্টারম্যান প্রভৃতি পদে নিয়োজিত।

সাহেদ চৌধুরীর অতীত রেকর্ড ঘেঁটে দেখা যায়, এর আগেও তার বিরুদ্ধে নানা গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
তিনি নিজেকে নৌবাহিনীর সাব-লেফটেন্যান্ট পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে প্রতারণা করতেন। এমন অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগও করেন তিনি।

এছাড়াও ব্যবসায়িক প্রলোভন দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর প্রতিশ্রুত চেক প্রদান করেও আত্মসাৎ করেন লাখ লাখ টাকা, থানায় এমন অভিযোগও এমন অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে ।

তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড এবং বর্তমান কার্যক্রম দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে—সাহেদ চৌধুরী কি আবারো ফেনী লাইন ট্রান্সপোর্টের ব্যানারে বড় ধরনের প্রতারণার জাল ছড়াচ্ছেন?

গাইড, হেলপার, কাউন্টারম্যান নিয়োগের নামে, বা শেয়ারহোল্ডার বানানোর নামে কিংবা বাস ব্যবসায় যুক্ত করার প্রলোভনে অভিজ্ঞতা বিহীন মানুষদের থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে আবারো গা-ঢাকা দেবেন না তো?

এদিকে চট্টগ্রাম আন্তঃজেলা বাস মালিক সমিতি কর্তৃপক্ষের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ফেনী লাইন নামে কোনো পরিবহন কোম্পানি এখনো পর্যন্ত তাদের থেকে নিবন্ধিত নেয়নি। এর মানে প্রতিষ্ঠানটি এই মুহূর্তে আন্তঃজেলা বাস চলাচলের কোনো বৈধ অনুমতি পাচ্ছে না।

ফেনী লাইন ট্রান্সপোর্ট প্রোফাইটি লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা সাহেদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে অতীতে যেসব অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে সেসবেরই ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে বলে সন্দেহ করছেন অনেকেই।
তার বক্তব্য ও বাস্তবতার মাঝে দ্বৈততা রয়েছে। নথিপত্র দেখাতে অপারগতা, অতীত অপরাধমূলক রেকর্ড, এবং নতুন উদ্যোগের পেছনে অস্পষ্টতা—সব মিলিয়ে বিষয়টি গভীর অনুসন্ধানের দাবি রাখে।
প্রশ্ন রয়ে যায়—সাহেদ চৌধুরীর ফেনী লাইন প্রতারণার নতুন ফাঁদ নয়তো?
[আরো বিস্তারিত আসছে দ্বিতীয় পর্বে…]