Dhaka , Monday, 2 March 2026
News Title :
  || বিশেষ বিজ্ঞপ্তি || কুতুবদিয়ায় শাহ আব্দুল মালেক আল-কুতুবী রাহমাতুল্লাহ এর ২৬ তম বার্ষিক ওরস শরীফ লাখো ভক্তের সমাগমের দ্বারা সম্পন্ন হয়েছে। চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাট চাঁন্দগাঁও এক কিলোমিটার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নতুন কমিটি অনুমোদিত। পটিয়ায় বেকারীর আড়ালে তৈরি হচ্ছে নকল নেসক্যাফ কফি, নীরব প্রশাসন চট্টগ্রামের সাতকানিয়া সোনাকানিয়া গারাঙ্গিয়া রঙ্গীপাড়া এলাকার পরিচিত মুখ মোহাম্মদ হোসেন জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে দেশত্যাগ করেছেন। সাতকানিয়া উপজেলা এলাকায় সনাতনী সম্প্রদায়ের অসহায় মহিলার ঘর নির্মানে আর্থিক সহায়তা প্রদান। একদিকে নিজের পড়াশোনা , অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন প্রোগ্রাম সভা… দক্ষিণ আগ্রাবাদ যুবদলের বিজয় র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে সন্দ্বীপের মুছাপুরের কৃতি সন্তান প্রসেনজিৎ দাস পেলেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজ  স্বর্ণপদক। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সড়ক পরিবহন শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তির জন্য দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
News Title :
  || বিশেষ বিজ্ঞপ্তি || কুতুবদিয়ায় শাহ আব্দুল মালেক আল-কুতুবী রাহমাতুল্লাহ এর ২৬ তম বার্ষিক ওরস শরীফ লাখো ভক্তের সমাগমের দ্বারা সম্পন্ন হয়েছে। চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাট চাঁন্দগাঁও এক কিলোমিটার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নতুন কমিটি অনুমোদিত। পটিয়ায় বেকারীর আড়ালে তৈরি হচ্ছে নকল নেসক্যাফ কফি, নীরব প্রশাসন চট্টগ্রামের সাতকানিয়া সোনাকানিয়া গারাঙ্গিয়া রঙ্গীপাড়া এলাকার পরিচিত মুখ মোহাম্মদ হোসেন জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে দেশত্যাগ করেছেন। সাতকানিয়া উপজেলা এলাকায় সনাতনী সম্প্রদায়ের অসহায় মহিলার ঘর নির্মানে আর্থিক সহায়তা প্রদান। একদিকে নিজের পড়াশোনা , অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন প্রোগ্রাম সভা… দক্ষিণ আগ্রাবাদ যুবদলের বিজয় র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে সন্দ্বীপের মুছাপুরের কৃতি সন্তান প্রসেনজিৎ দাস পেলেন বোর্ড অব ট্রাস্টিজ  স্বর্ণপদক। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সড়ক পরিবহন শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম মহানগর শাখার উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার রোগ মুক্তির জন্য দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সীমানার গল্প

 

রাকিবুল ইসলাম চৌধুরী:
যেখানে একপায়ে বাংলাদেশ, আরেক পায়ে বিস্ময়…
১২ ডিসেম্বর ২০২৪ | জাফলং, সিলেট, বাংলাদেশ
[ভ্রমণনামা × সীমান্তচিন্তা × বাস্তবতা]

ভ্রমণ কেবল গন্তব্য নয়, ভ্রমণ অনেক সময় সত্যকে ছুঁয়ে দেখার নাম। গত বছর যত জায়গা ঘুরেছি, তার মধ্যে একটিকে আলাদা করে মনে রেখেছে মন—জাফলংয়ের সীমান্ত। এখানে এসে যেন দেখলাম—সীমানা আসলে শুধু লাইন নয়, সেটা এক গভীর রাজনৈতিক বাস্তবতা, এক নীরব কাব্যও বটে।

জাফলং সীমান্তে পা রাখতেই মনে হলো—পৃথিবীর সবচেয়ে নরম সীমারেখা বোধহয় এখানেই।
না, এখানে কোনো কাঁটাতার নেই। নেই উঁচু দেয়াল কিংবা শক্তপোক্ত নজরদারির যন্ত্র। আছে শুধু কিছু পাথরের সারি, যেগুলোর উপর চুনকাম করে টানা হয়েছে দু’দেশের আলাদা পরিচয়। একপাশে বাংলাদেশ, আরেকপাশে ভারত। মাঝখানে নদী, পাহাড়, আর আকাশভরা নৈঃশব্দ্য। কিন্তু এই নৈঃশব্দ্যের মাঝেও শোনা যায় একটি রাষ্ট্রের সজাগ নিঃশ্বাস।

চারপাশে দেখি পর্যটকদের আনাগোনা—কেউ পাথরের উপর দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, কেউবা অজান্তেই সীমানা পেরিয়ে ফেলছেন। হঠাৎ ওপার থেকে ভেসে আসে একটি কণ্ঠ—
“এধার যাও!”
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (BSF) নির্দেশ।
এক মুহূর্তে হালকা ভ্রমণ রসের ভেতর ঢুকে পড়ে আন্তর্জাতিক বাস্তবতা।

আমার চোখ পড়ে এক বিজিবি সদস্যের দিকে—চুপ করে ঝোপের আড়ালে বসে আছেন, যেন সময়ের জন্য অপেক্ষায়। কিছুক্ষণ পরই দূর থেকে কয়েকজন ভারতীয় নারী থলে হাতে বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে আসেন। সেই মুহূর্তে যেন একটা অদৃশ্য অ্যালার্ম বেজে ওঠে। বিজিবি সদস্য বাঁশি বাজিয়ে সতর্ক করে দেন, সঙ্গে সঙ্গে অন্যরাও ছুটে আসেন।

সীমান্ত শুধু ভূগোল নয়, সেটা দায়িত্বের এক কঠিন ব্যাকরণ।
এই ঘটনাটি আমার মনে জাগিয়ে তোলে গভীর শ্রদ্ধা আমাদের সীমান্তরক্ষীদের প্রতি। তাঁরা ছায়ার মতো, নীরবে পাহারা দেন রাষ্ট্রের মর্যাদা। কিন্তু প্রশ্নও জাগে—এত সহজেই যদি মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করতে পারে, তবে আমরা কি সত্যিই সুরক্ষিত?

আমার ব্যক্তিগত ধারণা, কাঁটাতার বা দৃশ্যমান সীমাবেষ্টন একটি কার্যকর প্রতিরোধ হতে পারে চোরাচালান ও অনুপ্রবেশের বিপরীতে—শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক সীমান্ত-নীতি অনুযায়ী একটা ‘ডিটারেন্স’ হিসেবে কাজ করতে পারে।

এই ভ্রমণে আমার সঙ্গী ছিল সুভ সরদার (সুভ-দা)।
তাঁর মুখে একটা কথাই বারবার বাজছিল—
“চট করে ঢুকে পড়ি না হয়?”

জাফলংকে আর কেবল পাহাড় আর নদীর জন্য মনে থাকবে না আমার—
মনে থাকবে এটি একটি সীমারেখার প্রতিচ্ছবি,
যেখানে মানুষের স্বাধীনতা আর রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকে,
নীরবে… সম্মানে… আর সতর্কতায়।

Tag :
About Author Information

Popular Post

  || বিশেষ বিজ্ঞপ্তি ||

সীমানার গল্প

Update Time : 07:30 pm, Saturday, 14 June 2025

 

রাকিবুল ইসলাম চৌধুরী:
যেখানে একপায়ে বাংলাদেশ, আরেক পায়ে বিস্ময়…
১২ ডিসেম্বর ২০২৪ | জাফলং, সিলেট, বাংলাদেশ
[ভ্রমণনামা × সীমান্তচিন্তা × বাস্তবতা]

ভ্রমণ কেবল গন্তব্য নয়, ভ্রমণ অনেক সময় সত্যকে ছুঁয়ে দেখার নাম। গত বছর যত জায়গা ঘুরেছি, তার মধ্যে একটিকে আলাদা করে মনে রেখেছে মন—জাফলংয়ের সীমান্ত। এখানে এসে যেন দেখলাম—সীমানা আসলে শুধু লাইন নয়, সেটা এক গভীর রাজনৈতিক বাস্তবতা, এক নীরব কাব্যও বটে।

জাফলং সীমান্তে পা রাখতেই মনে হলো—পৃথিবীর সবচেয়ে নরম সীমারেখা বোধহয় এখানেই।
না, এখানে কোনো কাঁটাতার নেই। নেই উঁচু দেয়াল কিংবা শক্তপোক্ত নজরদারির যন্ত্র। আছে শুধু কিছু পাথরের সারি, যেগুলোর উপর চুনকাম করে টানা হয়েছে দু’দেশের আলাদা পরিচয়। একপাশে বাংলাদেশ, আরেকপাশে ভারত। মাঝখানে নদী, পাহাড়, আর আকাশভরা নৈঃশব্দ্য। কিন্তু এই নৈঃশব্দ্যের মাঝেও শোনা যায় একটি রাষ্ট্রের সজাগ নিঃশ্বাস।

চারপাশে দেখি পর্যটকদের আনাগোনা—কেউ পাথরের উপর দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, কেউবা অজান্তেই সীমানা পেরিয়ে ফেলছেন। হঠাৎ ওপার থেকে ভেসে আসে একটি কণ্ঠ—
“এধার যাও!”
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (BSF) নির্দেশ।
এক মুহূর্তে হালকা ভ্রমণ রসের ভেতর ঢুকে পড়ে আন্তর্জাতিক বাস্তবতা।

আমার চোখ পড়ে এক বিজিবি সদস্যের দিকে—চুপ করে ঝোপের আড়ালে বসে আছেন, যেন সময়ের জন্য অপেক্ষায়। কিছুক্ষণ পরই দূর থেকে কয়েকজন ভারতীয় নারী থলে হাতে বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে আসেন। সেই মুহূর্তে যেন একটা অদৃশ্য অ্যালার্ম বেজে ওঠে। বিজিবি সদস্য বাঁশি বাজিয়ে সতর্ক করে দেন, সঙ্গে সঙ্গে অন্যরাও ছুটে আসেন।

সীমান্ত শুধু ভূগোল নয়, সেটা দায়িত্বের এক কঠিন ব্যাকরণ।
এই ঘটনাটি আমার মনে জাগিয়ে তোলে গভীর শ্রদ্ধা আমাদের সীমান্তরক্ষীদের প্রতি। তাঁরা ছায়ার মতো, নীরবে পাহারা দেন রাষ্ট্রের মর্যাদা। কিন্তু প্রশ্নও জাগে—এত সহজেই যদি মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করতে পারে, তবে আমরা কি সত্যিই সুরক্ষিত?

আমার ব্যক্তিগত ধারণা, কাঁটাতার বা দৃশ্যমান সীমাবেষ্টন একটি কার্যকর প্রতিরোধ হতে পারে চোরাচালান ও অনুপ্রবেশের বিপরীতে—শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক সীমান্ত-নীতি অনুযায়ী একটা ‘ডিটারেন্স’ হিসেবে কাজ করতে পারে।

এই ভ্রমণে আমার সঙ্গী ছিল সুভ সরদার (সুভ-দা)।
তাঁর মুখে একটা কথাই বারবার বাজছিল—
“চট করে ঢুকে পড়ি না হয়?”

জাফলংকে আর কেবল পাহাড় আর নদীর জন্য মনে থাকবে না আমার—
মনে থাকবে এটি একটি সীমারেখার প্রতিচ্ছবি,
যেখানে মানুষের স্বাধীনতা আর রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকে,
নীরবে… সম্মানে… আর সতর্কতায়।