চন্দনাইশ প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের চন্দনাইশ বরমা এলাকার এক সেনাসদস্য কর্তৃক প্রতিবেশীর জমি ও শতবর্ষী চলাচল রাস্তা দখল করে পাকা দালান নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে প্রতিবাদ করলেই চালানো হয় নির্মম নির্যাতন। প্রতিবেশীদের অভিযোগ তার ভয়ে সব সময় আতঙ্কিত থাকতে হয়।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, চন্দনাইশ থানাধীন বরমা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের রমজু বলির বাড়ীর মৃত আব্দুল্লাহর ছেলে মো: জাহেদুল আলম সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে কর্মরত, সেনা সদস্য নং ৪০৪৯৭৭৫। সেনাবাহিনীর দাপট দেখিয়ে প্রতিবেশীদেরকে অনেকটা জিম্মি করে জমি দখল থেকে শুরু করে বিভিন্নভাবে নির্যাতন নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
প্রতিবেশী আজিজ, আব্দুল মালেক, তৌহিদ, মুরিদুল আলম, সাখাওয়াত হোসেন, নূরুল ইসলাম গং, আব্দুর রহিম গং, আবদুল মজিদ গং, আব্দুল আলম গংসহ ৯ পরিবারের প্রায় ৪০ জন লোকের
চলাচল পথ দখল করে সেখানে বাড়ী নির্মাণ করায় ভুক্তভোগীরা মানবেতর জীবনযাপন করতেছে। রাস্তা ছাড়াও বাড়ী করার সময় পার্শ্ববর্তী সাখাওয়াত হোসেনের জমি দখল করেন মর্মে জানা যায়। তার জমি পুনরুদ্ধারের জন্য এডিসির (রাজস্ব) নিকট আবেদন করেন।
গত ১/০৭/২০২৩ ইং তারিখে ভুক্তভোগীরা তাদের রাস্তা দখলে নেওয়ার এবং তাদের পুকুরে জোরপূর্বক মাছ ধরার প্রতিবাদ করলে জাহেদুল আলমের নেতৃত্বে তার অপরাপর ৩ ভাই জাশেদুল আলম, খোরশেদুল আলম এবং মোরশেদুল আলম বেধড়ক মারধর শুরু করে। তারা নূরুল ইসলামের ভাতিজা আব্দুল মজিদের ছেলে মো: হোসেনের উপর মধ্যযুগীয় কায়দায় হামলা করে। লাঠি দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা জখম করে, ইটের টুকরা দিয়ে কান থেতলে দেয় এবং নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এই ঘটনায় তিনি থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ সাফ জানিয়ে দেন সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া হবে না। বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান মীমাংস করে দিবেন মর্মে কালক্ষেপন করে। দীর্ঘদিন পর ১৯/৬/২০২৪ ইং তারিখে সালিসি বৈঠকের জন্য উভয় পক্ষ চেয়ারম্যানের নিকট গেলে আসামী পক্ষ চেয়ারম্যানের বিচার মানিবে না মর্মে হুমকি ধমকী দিয়ে বাদীপক্ষের দিকে তেড়ে যায়। নিরুপায় হয়ে বাদী ৮/৭/২০২৪ ইং তারিখে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতে মামলা দায়ের করেন, মামলা নং ৩৯৮/২০২৪। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য চন্দনাইশ থানাকে নির্দেশ দেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা উক্যসিং মার্মা বিবাদীর নিকট থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে একটি মিথ্যা প্রতিবেদন প্রদান করেন। বাদী নারাজি দিলে আদালত মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য ডিবিতে প্রেরণ করেন। ডিবির তদন্ত কর্মকর্তা মহিউদ্দিন বাদীকে আপোষের প্রস্তাব দিয়ে তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত করে রেখেছেন।
এছাড়া আরেক প্রতিবেশী উমর ফারুক, বান্দরবানের একটি মসজিদে ইমামতি করেন। তিনি বাড়ী নির্মাণ করতে গেলে জাহেদুল আলম উক্ত জায়গায় তার চলাচলের রাস্তার অংশ আছে জানিয়ে ৬ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করেন। দাবীকৃত চাঁদা না দিয়ে নির্মাণ কাজ চালিয়ে গেলে ২০/৪/২০২৪ ইং তারিখে নির্মাণ কাজ চলার সময় জাহেদুল আলম এবং তার ২ ভাইসহ বহিরাগত সন্ত্রাসীরা হামলা করে বাদী উমর ফারুকসহ কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিককে মারধর করে নির্মাণ কাজের প্রায় ৮০ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। উক্ত ঘটনায় উমর ফারুক বাদী হয়ে ৯/৫/২০২৪ইং তারিখে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৬নং আদালতে মামলা দায়ের করেন, মামলা নং- ২৪৬/২০২৪। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য চন্দনাইশ থানাকে নির্দেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা প্রভাবিত হয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি মর্মে প্রতিবেদন প্রদান করেন।
পার্শ্ববর্তী লোকজন জানান, জাহেদের বড়ভাই খোরশেদ ড্রাইভার একজন মাদকসেবি। তিনি প্রায় মদপান করে প্রতিবেশীদের উপর হামলা এবং অকথ্য ভাষায় গালি দেন, তার ভয়ে এলাকার স্কুল পড়ুয়া শিশু এবং কিশোরীরা আতঙ্কিত থাকেন।
জাহেদুল আলম এবং তার ভাইদের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানা এবং ইউনিয়ন পরিষদে প্রায় ২০টির বেশী অভিযোগ প্রদান করা হলেও কোন ভুক্তভোগী প্রতিকার পায়নি। উল্টো অভিযোগকারী র্যাব দিয়ে তুলে নিয়ে গুম-খুনের হুমকি দেয়।
ভুক্তভোগীদের একটাই প্রশ্ন সেনাসদস্য এবং তার পরিবার কি আইনের উর্ধ্বে?তারা জাহেদুল আলম এবং তার ভাইদের জুলুম-নির্যাতন থেকে বাঁচতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
রাস্তা দখলের পর চলাচলের পথ হারানো ভুক্তভোগীদের একটাই দাবী তারা চলাচলের পথ চায়। ৯০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা মৃত্যুর আগেই চলাচল রাস্তার মীমাংসা চান, যাতে তার মরদেহ কবরস্থানে নিতে অসুবিধা না হয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো নিজেকে ভুক্তভোগী দাবী করে সেনাসদস্য জাহেদুল আলম বলেন- আমিও হয়রানির স্বীকার হয়ে এ ধরনের কার্যকলাপ করতেছি,কিন্তু সরজমিনে তদন্ত প্রতিবেদনে ভিন্ন কথা বলে।
জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি সদস্য……….. বলেন- এটা পারিবারিক বিষয়, এটা বহুদিন যাবৎ আমরা স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিয়ে সমাধানের করতে চাইলে ও সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না।কারণ জাহেদ হচ্ছে উগ্রমেজাজি,আরো বলেন সাম্প্রতিক কিছুদিন আগে সেনা সদস্য জাহিদুল ইসলাম এক ব্যক্তির মাথা পাটিয়ে দেয়,আমি তার চাকরির দিকে চেয়ে, সবাইকে হাতে পায়ে ধরে থানার মাধ্যমে মিমাংসা করে দিয় এবং সে অঙ্গীকার করেছিল যে আর কখনো এ ধরনের কার্যকলাপ করবে না।
চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন-আমি নতুন এসেছি, আমি এই বিষয়ে নিয়ে অবগত নয়, তবে সুনির্দিষ্ট প্রমাণাদি থাকলে, সে যেই হোক না কেন? তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।দেশবাসী ও সুশীল সমাজের দাবি- সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে সে যেইহোক না কেন? অবশ্যই আইনের আওতায় এনে সমাজে তার এাসের রাজত্ব ধ্বংস করে দেওয়া হোক।

Reporter Name 








