পটিয়া প্রতিনিধি: নেসক্যাফ (NESCAFE)কফি হলো বিশ্ববিখ্যাত বহুজাতিক সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক খাদ্য ও পানীয় কোম্পানি “নেসলে” এর একটি কফি ব্র্যান্ড, যা মূলত ইনস্ট্যান্ট কফি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। ১৯৩৮ সালে চালু হওয়া এই ব্র্যান্ডটি কফি বিন থেকে তৈরি হয় এবং গরম পানিতে মিশিয়ে দ্রুত কফি তৈরির সুবিধা দেয়। বিশ্বজুড়ে নেসলে-এর বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে এর উৎপাদন হয়।
বাংলাদেশে নেসক্যাফ কফিসহ নেসলের সকল পণ্য প্যাকেজিং ও বাজারজাতকরণ করা হয় গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত কারখানা থেকে। এছাড়া বাংলাদেশের আর কোথাও তাদের প্যাকেজিং শাখা না থাকলেও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে নেসক্যাফ কফির নকল ফ্যাক্টরীর ভয়ংকর চিত্র। চট্টগ্রামের পটিয়া থানাধীন আমজুরহাট সংলগ্ন নাইখাইন টেকের পেট্রোল পাম্পের পাশের গলির ২৫০ মিটার ভিতরে নেছার উদ্দিনের জায়গায় মেটকোর সাইনবোর্ড ব্যবহার করে একটি মানহীন কথিত বেকারীর আড়ালে গড়ে উঠেছে এই নকল কারখানা।যেই ফ্যাক্টরি হতে দৈনিক লক্ষ লক্ষ টাকার নকল নেসক্যাফ কফি বাজারজাতকরণ করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায় রায়হান, পারভেজ এবং জাফরের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র এই নেসক্যাফ কফি উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে জড়িত। তারা ময়লাযুক্ত খালি জার সংগ্রহ করে সেগুলো পরিষ্কার করে লেবেল ছাপিয়ে মানহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ কফি ঢুকিয়ে অরিজিনাল নেসক্যাফ কফি কে হুবহু নকল করতেছে যা সাধারণ মানুষের বুঝার কোন সুযোগ নাই। এসব নকল কফি অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে বিভিন্ন অসাধু ব্যবসায়ীরা সংগ্রহ করে আসল কফির দামে ভোক্তার নিকট বিক্রি করে।
ক্রেতারা স্বাচ্ছন্দ্য ও নিশ্চিন্তে অরজিনাল ব্র্যান্ডের নেসক্যাফ কফি মনে করে পরিবার-পরিজনের জন্য নিয়ে যাচ্ছে এই নিম্ন মানের ভেজাল কফি। অথচ পরিবারের সদস্যরা এই ভেজাল কফি পান করে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।কারণ এই ভেজাল কফিগুলো উৎপাদন ও প্যাকেটজাত করা হয় সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। এমনকি যারা প্যাকেটজাত করে তাদের হাতে গ্লাভস পর্যন্ত থাকে না।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জানান, এখানে নকল কফি তৈরির বিষয়টি তারা জানেন না। তারা জানেন এখানে বেকারী পণ্য উৎপাদিত হয়। এই ভেজাল কফি কারখানার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
জানতে চাইলে ভেজাল কফি তৈরির মূল হোতা রায়হান বলেন, এলাকার স্থানীয় লোকজন এবং প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এই ভেজাল কফি কারখানা পরিচালনা করেন। নিউজ করে কোন লাভ হবে না, নিউজ করলে উল্টো ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ এর কাছে জানতে চাইলে- তিনি বলেন- এই বিষয়ে কিছু জানেন না, তবে এখন যখন জেনেছেন দেশ ও জাতির স্বার্থে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

Reporter Name 








