চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : আপনাদের সম্মুখে এমন একজন প্রতারকের প্রতারণার কথা তুলে ধরব, যার প্রতারণার কথা নাটক, সিনেমা ও গল্প কে ও হার মানায়।।
একজন মানুষ কতটুকু পাষাণ্ড ও প্রতারক হলে তাকে অমানুষ বলা যায়,তা আজ দেখতে পারবেন আমাদের নিউজের মাধ্যমে।।
গিরগিটি যেমন সেকেন্ডের মধ্যে রূপ পাল্টায়, তেমনি ভাল মানুষের মুখোশ পরে,সহজ- সরল মানুষগুলো থেকে লক্ষ-লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে-চন্দনাইশ উপজেলার অন্তর্গত দোহাজারী পৌরসভার শাহ আলমের ছেলে নকল কফি বিক্রেতা মোহাম্মদ পারভেজ।সে বিশ্বমানের নেসক্যাফ কফিকে নকল করে বাজারজাত করে আসছে দীর্ঘদিন যাবৎ।।
এই ব্যবসার সুযোগে সাধারণ মানুষকে মোটা অঙ্কের লভ্যাংশের লোভ দেখিয়ে অভিনব কায়দায় করে যাচ্ছেন প্রতারণা, প্রথমে মানুষের সাথে ভাল ব্যবহার করে বন্ধুত্ব তৈরি করে, পরবর্তীতে তার ব্যবসায় শেয়ার দেওয়ার জন্য অনুরোধ করে, তখন সাধারণ মানুষ তার প্রতারণা বুঝতে না পেরে,তাকে ভালো মানুষ ভেবে,তার ব্যবসায় শেয়ার দেয়, প্রথম মাসে তাকে মোটামুটি কিছুটা লভ্যাংশ দিয়ে খুশি রাখে,যেন পরবর্তীতে আরো মোটা অঙ্কের টাকা হাতানো যায়।যেই চিন্তা সেই কাজ,হঠাৎ একদিন কল দিয়ে বলবে- ভাই কেমন আছেন, আপনি কোথায়? আমার জন্য দোয়া করবেন, আমি বড় একটা ব্যবসার ডিল করতে যাচ্ছি,তাই ভাবলাম প্রথমে আপনাকে কল দিয়ে জানাই, ও আচ্ছা! আপনি আমার এই নতুন ব্যবসার সাথে শেয়ার হবেন নাকি?আপনি আবার মনে কিছু করিয়েন না, আমি আপনাকে ভালোবাসি তাই বললাম, ভাবলাম যে অন্যকে না বলে আপনাকে বললে ভাল হয়,কারন আমি তো আপনাকে ভাই হিসেবে জানি,আমার মাধ্যমে আপনার দুই, চার-পাঁচ পয়সা লাভ হলে ক্ষতি কি?এটা প্রায় কয়েক কোটি টাকার ব্যবসার ডিল,আমার প্রায় টাকা যোগাড় হয়ে গেছে, আর মাত্র ২০-৩০ লাখ টাকা শর্ট আছে,পারলে আমাকে একটু কষ্ট করে ৩০ লক্ষ টাকার ব্যবস্থা করে দেন,আপনাকে মাসে-মাসে ব্যবসার থেকে আসা লভ্যাংশের একটা পার্সেন্টিজ দিয়ে দেবো।তখন সহজ সরল বোকা মানুষটি তার প্রতারণা বুঝতে না পেরে তাকে ভালো মানুষ ভেবে জায়গা-জমি বিক্রি করে হলেও টাকার ব্যবস্থা করে দেন সামান্য কিছু লভ্যাংশের আশায়।কিন্তু তার এই ভালো মানুষের মুখোশ কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে খুলে যায় ওই বোকা সহজ-সরল মানুষের কাছে, তিনি যখন ব্যবসার লভ্যাংশের হিসাব চাই তখন এই বিশ্বমানের প্রতারক পারভেজ বিভিন্ন অজুহাত দেখায় এবং এক পর্যায়ে বলে আমি যে ব্যবসার জন্য টাকাটা দিয়েছি সেখানে আমার লজ হয়ে গেছে,আমি আপনাকে লাভ দিতে না পারলেও কয়েক মাসের মধ্যে আপনার আসল টাকা আপনাকে ফেরত দিয়ে দেব, আপনি যদি ধৈর্য ধারণ করতে না পারেন তাহলে আমার করার কিছু নাই।।
এভাবেই এই প্রতারক পারভেজ দেশ হতে দেশ দেশান্তরে ঘুরে ঘুরে ভালো মানুষের মুখোশ পরে প্রথমে মানুষের সাথে বন্ধুত্ব তৈরি করে অবশেষে তাদের থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে তাদেরকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে,তাকে টাকা দিয়ে পরিবারগুলো আজ পথে বসে গেছে, এমন কিছু মানুষ থেকে টাকা নিয়েছে যারা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে সামান্য কিছু লাভের আশায় তাকে টাকাটা দিয়েছিল, আর সে মানুষগুলো আজ নীড় হারা,অথচ সে অভিনব কায়দায় প্রতারণা করে সাধারণ মানুষ থেকে লক্ষ- লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে বাকলিয়া থানাধীন ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের রসুল বাগ বলাকা আবাসিকে অভিজাত মূল্যের ফ্ল্যাটে আরাম-আয়েসে দিন কাটাচ্ছে।।
ঢাকা- চট্টগ্রাম ও বিভিন্ন ব্যাংক থেকে মিলিয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকার মতো হাতিয়ে নিয়েছে এই প্রতারক পারভেজ।তাতে বেশ কিছু মামলা ও করেছেন ভুক্তভোগী ও ব্যাংক কর্মকর্তারা, তবুও কোন কুঠির জোরে এই প্রতারক পারবেজ, স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে জানতে চাই সাধারণ জনগণ।
ভুক্তভোগীদের দাবি তাকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক যাতে বাংলাদেশের মাটিতে এইরকম প্রতারকের জন্ম না হয় এবং তারা দেশ ও জাতির উদ্দেশ্যে আরো বলেন এই প্রতারক পারভেজের নিউজটি দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে দিন,যেন আমাদের মত আর কোন সহজ-সরল ভাই- বোনেরা ওর প্রতারণার ফাঁদে না পড়ে।

Reporter Name 









